সনাতন ধর্মের মূল ভিত্তি হলো বেদ। চার বেদের মধ্যে ‘যজুর্বেদ’ অন্যতম, যা প্রধানত কর্মকাণ্ড, যজ্ঞ, রাষ্ট্রপরিচালনা এবং সমরবিদ্যার সাথে সম্পর্কিত। আজ আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি যজুর্বেদের একটি অত্যন্ত দুর্লভ ও গবেষণামূলক ভূমিকার ইবুক।
বইটি ডাউনলোড করার আগে চলুন যজুর্বেদ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় প্রমাণ ও তথ্য জেনে নিই।
যজুর্বেদের উৎপত্তি ও স্বরূপ
যজুর্বেদের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছে, তা ঋগ্বেদে খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ঋগ্বেদের পুরুষসূক্তে বলা হয়েছে:
ছন্দাংসি জজ্ঞিরে তস্মাদ্যজুস্তস্মাদজায়ত॥"
— (ঋগ্বেদ ১০।৯০।৯)
যজুর্বেদ মূলত যজ্ঞময় পরমেশ্বরের স্বরূপ এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কার্যপ্রণালীকে নির্দেশ করে।
যজুর্বেদের শাখাসমূহ
কালক্রমে বেদের পঠন-পাঠন ও প্রচারের সুবিধার্থে ঋষিরা বেদের শাখা বিভাগ করেন। যজুর্বেদের শাখার সংখ্যা সম্পর্কে মহর্ষি পতঞ্জলি তাঁর ‘মহাভাষ্য’-এ বলেছেন:
— (মহাভাষ্য)
শুক্ল যজুর্বেদ এবং কৃষ্ণ যজুর্বেদ: পৌরাণিক ভ্রান্তি ও প্রকৃত সত্য
যজুর্বেদ মূলত দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত—
- কৃষ্ণ যজুর্বেদ এবং
- শুক্ল যজুর্বেদ।
এই বিভাজন নিয়ে পুরাণগুলোতে একটি প্রচলিত রূপক বা গল্প রয়েছে— ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য তাঁর গুরু বৈশম্পায়নের ওপর রাগ করে শেখা যজুর্বেদ বমি করে দেন। তখন অন্য শিষ্যরা ‘তিতির’ পাখি হয়ে সেই বমি খেয়ে নেয়, যা থেকে ‘তৈত্তিরীয় শাখা’ (কৃষ্ণ যজুর্বেদ) তৈরি হয়। এরপর যাজ্ঞবল্ক্য সূর্যদেবের তপস্যা করেন এবং সূর্যদেব ঘোড়া (বাজি) রূপ ধারণ করে তাঁকে নতুন যজুর্বেদ শেখান, যাকে ‘বাজসনেয়ী শাখা’ (শুক্ল যজুর্বেদ) বলা হয়।
কিন্তু এই গ্রন্থে লেখক মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর মতানুসারে এই পৌরাণিক গালগল্পকে খণ্ডন করেছেন:
- প্রকৃত অর্থ: এগুলো কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং ঋষিদের নামানুসারে শাখার নাম হয়েছে। পাণিনির ব্যাকরণ অনুযায়ী, ঋষি ‘তিতিরি’-এর দ্বারা পঠিত বা প্রচারিত শাখাটিই হলো তৈত্তিরীয় শাখা। আর ‘বাজসন’ ঋষির শিষ্যদের ধারা থেকে এসেছে বাজসনেয়ী শাখা।
- শুক্ল কেন? শতপথ ব্রাহ্মণে (১০.৪.২.২১) বলা হয়েছে— "অসৌ বা আদিত্যঃ শুক্রঃ।" অর্থাৎ, আদিত্য বা সূর্যের আরেক নাম 'শুক্র' বা 'শুক্ল' (যা শুদ্ধ ও দীপ্তিময়)। ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য এই শুদ্ধ মন্ত্রভাগ সূর্য বা আদিত্য-সম্প্রদায়ের জ্ঞান থেকে গ্রহণ করেছিলেন বলেই একে শুক্ল যজুর্বেদ বলা হয়।
পাশ্চাত্য পণ্ডিত মনিয়ার উইলিয়ামসের মতে, যে সংহিতায় মন্ত্র এবং ব্রাহ্মণ (ব্যাখ্যা) মিশ্রিত অবস্থায় আছে, সেটি ‘কৃষ্ণ যজুর্বেদ’ (অন্ধকার বা মিশ্রিত)। আর যেখানে কেবল শুদ্ধ মন্ত্র আলাদাভাবে সংকলিত আছে, তা হলো ‘শুক্ল যজুর্বেদ’ (শুদ্ধ বা পরিষ্কার)।
যজুর্বেদের প্রতিপাদ্য বিষয় ও উপবেদ
যজুর্বেদের মূল বিষয়বস্তু হলো— রাজ্যশাসন, শাসন-বিভাগ, রাষ্ট্র-বিজয়, রাজ্যাভিষেক এবং যুদ্ধনীতি। আর এই কারণেই যজুর্বেদের উপবেদ হলো 'ধনুৰ্বেদ' (সমরবিদ্যা)।
মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী তাঁর সংস্কারবিধিতে এবং শ্রীমদভাগবত, স্কন্দপুরাণ প্রভৃতি গ্রন্থেও স্বীকার করা হয়েছে যে, যজুর্বেদের উপবেদ ধনুৰ্বেদ।
ইবুকটি কেন পড়বেন?
- মূল রচয়িতা: অপৌরেষেয়
- ভাষ্যকার: পণ্ডিত জয়দেব শর্মা
- অনুবাদক: পণ্ডিত জয়দেব শর্মা
- প্রকাশক: আর্য সাহিত্য মণ্ডল, আজমের
- বিষয়বস্তু: সনাতন দর্শন, বেদ
মতামত দিন
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন