সনাতন ধর্মের পবিত্রতম ধর্মগ্রন্থ হলো বেদ। কিন্তু পাশ্চাত্যের অনেক পণ্ডিত এবং কিছু ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেকেই মনে করেন যে— "বেদ মূলত তিনটি (ঋক্, সাম, যজুঃ) এবং অথর্ববেদ অনেক পরে রচিত হয়েছে।"
আজ আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি অথর্ববেদ ভাষ্যের এমন একটি গবেষণামূলক 'ভূমিকা', যেখানে এই সমস্ত ভ্রান্তির শাস্ত্রীয় প্রমাণসহ যোগ্য জবাব দেওয়া হয়েছে। ইবুকটি ডাউনলোড করার আগে চলুন এর মূল বিষয়গুলো জেনে নিই।
অথর্ববেদ কি নবীন বা পরে রচিত?
অনেকে যুক্তি দেন যে, প্রাচীন গ্রন্থগুলোতে কেবল তিনটি বেদের উল্লেখ পাওয়া যায়, তাই অথর্ববেদ পরে রচিত। কিন্তু এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রাচীন উপনিষদ ও ব্রাহ্মণ গ্রন্থগুলোতে স্পষ্টভাবে চার বেদেরই উল্লেখ রয়েছে।
শাস্ত্রীয় প্রমাণ:
মুণ্ডক উপনিষদে বলা হয়েছে—
— (মুণ্ডক উপনিষদ ১।১।৫)
বৃহদারণ্যক উপনিষদেও (২।৪।১০) পরমেশ্বরের নিশ্বাস থেকে চার বেদের উৎপত্তির কথা বলা হয়েছে—
'বেদত্রয়ী' শব্দের প্রকৃত অর্থ কী?
অনেকে 'বেদত্রয়ী' শব্দটির অর্থ করেন "তিনটি বেদ"। পণ্ডিতদের মতে এটি একটি মস্ত বড় ভুল! 'বেদত্রয়ী' বলতে তিনটি বই বোঝায় না, বরং বেদের তিন প্রকার রচনামন্ত্র বা শৈলীকে বোঝায়। জৈমিনীর মীমাংসা দর্শন অনুযায়ী বেদের মন্ত্র তিন প্রকার:
- ঋক্: যে মন্ত্রগুলো ছন্দে রচিত বা পদ্য (Poetry)।
- সাম: যে মন্ত্রগুলো গীতি বা গান করার যোগ্য (Song)।
- যজুঃ: যে মন্ত্রগুলো গদ্য আকারে রচিত (Prose)।
অথর্ববেদে এই তিন প্রকার (ঋক্, সাম, যজুঃ) শৈলীর মন্ত্রই বিদ্যমান রয়েছে। তাই রচনাসৈলীর দিক থেকে বেদের জ্ঞানকে 'ত্রয়ী বিদ্যা' বলা হয়। এর মানে এই নয় যে বেদ কেবল তিনটি।
এছাড়া যজ্ঞের সময় চারজন প্রধান ঋত্বিক থাকেন— হোতা (ঋগ্বেদ), অধ্বর্যু (যজুর্বেদ), উদ্গাতা (সামবেদ) এবং ব্রহ্মা (অথর্ববেদ)। ব্রহ্মা হলেন সম্পূর্ণ যজ্ঞের পর্যবেক্ষক। অথর্ববেদ ছাড়া কোনো যজ্ঞই পূর্ণ হতে পারে না।
অথর্ববেদের ৯টি শাখা
মহর্ষি পতঞ্জলি তাঁর ব্যাকরণ মহাভাষ্যে অথর্ববেদের শাখা সম্পর্কে বলেছেন—
— (মহাভাষ্য)
তবে কালের গর্ভে অনেক শাখা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও বর্তমানে প্রধানত শৌনকীয় এবং পৈপ্পলাদ— এই দুটি শাখাই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও উপলব্ধ।
অথর্ববেদের বিষয়বস্তু ও উপবেদ
অথর্ববেদকে কেবল জাদু-টোনা বা বশীকরণের গ্রন্থ বলা পাশ্চাত্যের পণ্ডিতদের (যেমন- গ্রিফিথ, হুইটনি) একটি বড় ষড়যন্ত্র। মূলত, অথর্ববেদ হলো বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিদ্যা, সমাজনীতি এবং রাষ্ট্রপরিচালনার এক বিশাল ভাণ্ডার।
- আয়ুর্বেদ: অথর্ববেদে মানবদেহের বিভিন্ন রোগ, কৃমি, জীবাণু এবং তার ভেষজ চিকিৎসার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে (যাকে ভেষজ বিদ্যা বলা হয়)। এই কারণেই এর উপবেদ হলো আয়ুর্বেদ।
- রাষ্ট্রনীতি: রাজা নির্বাচন, প্রজা পালন, সেনাপতি নিয়োগ ইত্যাদি বিষয়গুলো অথর্ববেদে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
- গার্হস্থ্য ধর্ম: বিবাহ, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, অতিথি সেবা ইত্যাদি সমাজ গঠনের মূল ভিত্তিগুলো এই বেদে রয়েছে।
ইবুকটি কেন পড়বেন?
- মূল রচয়িতা: অপৌরেষেয়
- ভাষ্যকার: পণ্ডিত জয়দেব শর্মা
- অনুবাদক: পণ্ডিত জয়দেব শর্মা
- প্রকাশক: আর্য সাহিত্য মণ্ডল, আজমের
- বিষয়বস্তু: সনাতন দর্শন, বেদ
মতামত দিন
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন